নির্বাচন কমিশন ও শাসিতদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার টেকসই প্রচেষ্টা

responsive

 

দে লো য়া র  জা হি দ

যেকোনো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সে দেশের নির্বাচন, যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক উত্তরণ, পারস্পরিক শান্তি স্থাপন  এবং গণতন্ত্রকে সুসংহতকরনের প্রক্রিয়া।বিশ্বব্যাপী অতি জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক অনুষঙ্গ হলো সে দেশের  নির্বাচন । উন্নত দেশে ইলেকশনস সংসদের একটি স্বাধীন ও নির্দলীয় সংস্থা এবং এর প্রাথমিক কাজ হল সকল নির্বাচনী অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থাকা। বাংলাদেশের স্বাধীনতাত্তোর ৩-৪টি নির্বাচন ব্যতিরেকে প্রায় সব কয়টি নির্বাচনকে ঘিরেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দেশে আইনের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন ও পরিচালনা করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সাম্প্রতিককালে কিছু ব্যতিক্রম এমনকি প্রধান বিরোধীদলের অংশ গ্রহণ ছাড়াও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো  ছিল খুবই সংঘাপূর্ণ, জবরদস্তিমূলক ও সহিংসতায় ভরপুর। একথা  সত্য যে দেশে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ কোনো নির্বাচন অনুষ্টান কখনই সম্ভব হবে না যদি না দেশের নির্বাহী বিভাগ দায়িত্বশীলতার সাথে সহযোগিতা করে.এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো সংসদে পাসকৃত একটি আইনের আওতায় গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন নির্বাচন কমিশন। সে আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি অনুসন্ধান কমিটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির কাছ থেকে তিনশত বাইশটি (৩২২) নাম সংগ্রহ করেছেন যাদের মধ্যে দেশের  বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক, সাবেক বিচারপতি, বিচারক ও আইনজীবী, সাবেক আমলা, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য শ্রেণি পেশার মানুষ ও রয়েছেন।

সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ যারা এ এতে রয়েছেন তাদের নিয়ে ও নানারকম শঙ্কা এবং পক্ষপাতের অভিযোগ তুলতে পিছপা হচ্ছেনা প্রধান বিরোধী দল. নানাহ বিতর্কের মধ্যেই  ২০১৭ সালে গঠিত নির্বাচন কমিশন ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের মেয়াদ শেষ করেছে। দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি কার্যতঃ এখন নেতৃত্ব শূণ্য।  নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পদক্ষেপ হিসেবে সার্চ কমিটিতে আসা প্রস্তাবিত সকল নামের তালিকা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। "প্রকাশিত তালিকায় যারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ছহুল হোসাইন, ইকবাল করিম, আব্দুল মান্নান, আবুল কালাম আজাদ, এম. সাখাওয়াত হোসেন, জাফর আহমেদ খান, ড. তোফায়েল আহমেদ, নজিবুর রহমান, ড. মোহাম্মদ সাদিক সহ আরও অনেকে" (বাংলা ইনসাইডার,১৪ ফেব্রুয়ারী)

গতকাল মিট দ্যা রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় যুক্তরাজ্য। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ভয়মুক্ত অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় যুক্তরাজ্যসহ উন্নয়ন সহযোগিতার দেশগুলো। এর লক্ষ্য হলো স্বচ্ছ গণতন্ত্র। এটি সম্ভব হলে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে। আর নির্বাচন নিয়ে বড় সমস্যা হলে যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ নিয়ে হয়তো নতুন করে চিন্তা করবে। গত রোববার ডিআরইউতে মিট দ্যা রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন একথা বলেন।(বাংলা ইনসাইডার,১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২). নির্বাচন কমিশন গঠনে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বাছাইয়ের এ প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত জানিয়েছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে কখনো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি পাওয়া যাবে না।---এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন না। তাঁর মতো ব্যক্তি গ্রহণযোগ্য না হন, এখানে আমরা এসব কথা বলি এটা কল্পনার রাজ্য হয়ে যাবে।’ তাঁর মতে, কেউ নিরপেক্ষ নন। মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বাস করে না, এমন লোক কেউ চাইবে না।(প্রথম আলো, ১৩ ফেব্রুয়ারি) .অবস্থানুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন ও পরিচালনা করার ক্ষেত্রে চলমান রয়েছে গভীর আস্থার সংকট। এ সংকট সমাধানে আমাদের খুঁজেতে হবে উন্নত দেশগুলোর নির্বাচনি সংস্কৃতি ও তাদের আইন কাঠামো।

 ইলেকশনস কানাডা সংসদের একটি স্বাধীন, নির্দলীয় সংস্থা। এর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার নেতৃত্বে নির্বাচনী অনুষ্ঠান সমূহ পরিচালনা করা হয়। প্রধান নির্বাচনী অফিসারের পদটি ১৯২০ সালে ডোমিনিয়ন ইলেকশনস অ্যাক্ট দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, রাজনৈতিক দলাদলির অবসান ঘটাতে ফেডারেল নির্বাচনের এ প্রশাসন গঠিত হয়. কানাডায় প্রধান নির্বাচনী অফিসারকে হাউস অফ কমন্সের একটি রেজুলেশন দ্বারা নিযুক্ত করা হয়, যাতে সেখানে প্রতিনিধিত্বকারী সমস্ত দল এ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে পারে। একবার নিযুক্ত হলে, দায়িত্বশীল ব্যক্তি সরাসরি সংসদে রিপোর্ট করেন এবং এভাবে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলি থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান নির্বাচনী অফিসারকে ১০ বছরের অ-নবায়নযোগ্য মেয়াদের জন্য নিযুক্ত করা হয়।

ইলেকশনস কানাডা  অফিসের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক তার ম্যান্ডেট পালন করেন সাধারণত জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে কর্মরত প্রায় ৫০০ কর্মচারীর একটি গঠিত হয় । কমিশনারকে প্রধান নির্বাচনী অফিসার পাবলিক প্রসিকিউশনের পরিচালকের সাথে পরামর্শ করে নিযুক্ত করেন। কমিশনারকে দশ বছরের মেয়াদের জন্য নিযুক্ত করা হয়, যা নবায়নযোগ্য নয়। একটি সাধারণ নির্বাচন বা গণভোটের সময়, সারা দেশে ২৩৫,০০০ টিরও বেশি পদ নির্বাচনী কর্মীদের দ্বারা পূরণ করা হয়। প্রতিটি নির্বাচনী জেলায় একজন রিটার্নিং অফিসার সংসদ সদস্য নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন পরিচালনা করেন। গভর্নর জেনারেল দ্বারা শুধুমাত্র কারণের জন্য তাকে অপসারণ করা যেতে পারে।হাউস অফ কমন্স এবং সেনেটের একটি যৌথ ঠিকানা ইলেকশনস কানাডা অনুসরণ করে, ইলেকশনস কানাডা নির্বাচনী ইভেন্টগুলির প্রস্তুতি এবং পরিচালনার সাথে জড়িত প্রশাসনিক কাজগুলি সম্পাদন করার জন্য,  বিভিন্ন সেক্টরে সংগঠিত হয়ে এর কার্যক্রমকে পরিচালনা করে।

বাংলাদেশে গত প্রায় এক দশক ধরে একটি পূর্ণাজ্ঞ নির্বাচন কমিশন আইনের দাবি উত্থাপিত হয়ে আসছিলো। বোদ্ধামহল মনে করেন যে সরকার নির্বাচন কমিশন নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু বিলম্ব করার ফলে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটিতে আকস্মিক ভাবে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধানের নির্দেশনাকে এখানে যথাযথভাবে অনুসরণ অনুসরণ করা হয়নি। সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে তা নিয়ে ও বিতর্কের অবসান হবে মনে করার যুক্তিক কোনো কারণ নেই.

বিএনপি সহ সরকার বিরোধী জোট নেতারা যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দূতাবাস কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠক করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় কাদের রাখলে ভালো হয় বা কাদের থাকা উচিত ও  কারা কারা থাকলে একটি ভালো নির্বাচন কমিশন গঠন হবে এ নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। তবে তারা সার্চ কমিটির কাছে সরাসরি কোনো নাম প্রস্তাব করেননি। একটি সংবাদ সূত্রে প্রকাশ কূটনৈতিক মহল বলছেন যে, বাংলাদেশের নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে হবেন বা নির্বাচন কমিশনে কারা থাকবেন এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে তারা বিষয়গুলোর উপর নজর রাখছেন এবং কিভাবে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হয় সেই প্রক্রিয়া তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।
.  
বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা তার শেষ কার্যদিবসে ইসি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন তার মর্মার্থ হলো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে ও তা সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন ।বাংলাদেশের সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্বসহ যাবতীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছন।   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ যুগান্তর প্রতিবেদনে জানা যায় দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই রাজনৈতিক দল ও জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চ্যালেঞ্জসমূহ কি তা জানার চেষ্টা করে। সে অনুযায়ী কর্মপন্থা নির্ধারণ করে ছিলেন। নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে একটি কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এ কর্মপরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর স্টেকহোল্ডার-নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র জার্নালিস্ট, এনজিও প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষক, বিদেশি কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত, প্রস্তাব ও পরামর্শ আমাদের সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভাবে সব নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করেছে এবং সার্বিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন পাঁচ বছরে ৬৬৯০টি নির্বাচন অনুষ্ঠান করেছে।  রুটিন কাজের বাইরেও নতুন কিছু কাজ শুরু করার তথ্য দেন । যেমন -নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব আইন যুগোপযোগী করে সংস্কার করা, এ ছাড়া সাধারণ জনগণ যাতে সহজেই আইনসমূহ বুঝতে পারেন, সে জন্য আইনসমূহ বাংলায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া, বিভিন্ন আইন সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) অনুবাদ করে নির্ভরযোগ্য বাংলা পঠন প্রণয়ন করা, জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ আইন প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ বাংলায় নতুন আইন প্রণয়ন করা, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা,বিদেশে বসবাসরত প্রত্যেক নাগরিককে ভোটার তালিকাভুক্ত করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া প্রক্রিয়া শুরু করার তথ্য দেন. হালনাগাদ করার পর বর্তমানে (১৯ জানুয়ারি ২০২২) দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৩১ লাখ ২৩ হাজার ১৭৫ জন বলে জানানো হয়.

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দল ও জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। রাষ্ট্রপতি আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে  বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, তাই নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী বিভাগ, রাজনৈতিক দল ও জনসাধারণের সহযোগিতা নিয়ে এই কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন সব ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ে আরো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম হবে।(তথ্যসূত্র:১৩ ফেব্রুয়ারি,  ২০২২ (বাসস) :


জাতিসংঘ সারা বিশ্বে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার, গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচারে ইচ্ছুক,.গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী সরকার, নির্বাচকমণ্ডলী এবং সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলির সাথে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমিকভাবে শাসিতদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য; প্রত্যেকের নিজ দেশের সরকারে অংশ নেওয়ার অধিকার মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার কার্যকরী উপভোগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচন যার সাধারণ দায়িত্ব হিসেবে  স্বীকার করে যে, পর্যায়ক্রমিক এবং প্রকৃত নির্বাচন শাসিতদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য টেকসই প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয় এবং অপরিহার্য একটি উপাদান এবং এটি , বাস্তব অভিজ্ঞতার বিষয় হিসাবে, প্রত্যেকের নিজ দেশের সরকারে অংশ নেওয়ার অধিকার- মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার কার্যকরী উপভোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক কারণ,এ মানদণ্ডের ঘোষণা হয়েছে আন্তঃসংসদীয় কাউন্সিল এর ১৫৪ তম অধিবেশনের একটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত সিদ্বান্তে (প্যারিস, ২৬ মার্চ ১৯৯৪). শাসনের কর্তৃত্ব জনগণের ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে হবে তাই বলতে চেয়েছেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি। যিনি নিজে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য সব সুযোগ্য কমিশনারদের নিয়োগ দিবেন। যারা ‘নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছা পরাধীন না হয়ে সংবিধান ও আইনের অধীন থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত করবেন। দেশে নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি নিরপেক্ষ,ভারসাম্যপূর্ণ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক লক্ষ্যগুলির প্রগতিশীল অর্জন এবং সুসংহতকরনের প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
 

responsive

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন